বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন শখ থাকতে পারে, তার মধ্যে ফটোগ্রাফি অন্যতম । ফটোগ্রাফি কে শুধু শখ হিসেবে নয় আজকাল অনেকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। অনেকেই মনে করেন ভালো DSLR ক্যামেরা না থাকলে ভালো ফটোগ্রাফার হওয়া যায় না কিন্তু এই ধারনা ভুল কেননা সুন্দর কলম থাকলেই যে সুন্দর লেখা হবে এমন কিন্তু নয় । ভালো ফটোগ্রাফার হতে চাইলে সবার আগে আপনার প্রয়োজন সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি । মনে রাখবেন , গলায় DSLR ঝুলালেই ফটোগ্রাফার হওয়া যায়না। হতে পারে আপনার DSLR নেই তাতে কি? আপনার আপনার শখের মোবাইল তো আছে । সুন্দর ফটোগ্রাফির জন্য DSLR থাকা জরুরি নয়। সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি থাকলে আপনি আপনার মোবাইল দিয়েও অনেক সুন্দর ছবি তুলে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন সবাইকে । মোবাইল দিয়ে ভালো ছবি তুলতে চাইলে কিছু টিপস মেনে চলুন একদিন হয়ত আপনিও হয়ে যেতে পারেন দেশবরেণ্য ফটোগ্রাফার।

টিপসঃ



১।ফটোগ্রাফির মূল বিষয় হল আলো তাই আপনাকে প্রথমে লক্ষ করতে হবে আলো কোন দিক থেকে আসছে , আপনাকে খেয়াল করতে হবে সাবজেক্টের উল্টা দিক থেকে যেন আলো আসে তাহলে সাবজেক্ট স্পষ্ট আসবে । যদি সাবজেক্টের পেছনে আলোর উৎস থাকে তাহলে সাবজেক্ট স্পষ্ট আসবেনা এবং ব্যাকগ্রাউন্ড জ্বলে যাবে।
২। ছবি তোলার সময় হাত কাঁপলে ছবির মান খারাপ হবে । তাই ছবি তোলার সময় হাত কাপাকাপি করলে প্রয়োজনে ট্রাইপড বা অন্য কিছু ব্যাবহার করুন সাপোর্ট দেয়ার জন্য।
৩।ছবি তোলার সময় ব্যাকগ্রাউন্ড কে গুরুত্ব দিন ব্যাকগ্রাউন্ড হাল্কা না হলে আপনার সাবজেক্টটি মর্যাদা হারাতে পারে।
৪। ছবি তোলার সময় জুম ব্যবহার না করাই ভালো।
৫। যতদূর সম্ভব কাছ থেকে ছবি তোলার চেষ্টা করুন।
৬। বিভিন্ন আঙ্গেল থেকে ছবি তোলার চেষ্টা করুন।
৭। খেয়াল করুন আপনার মোবাইলের লেন্সে কোন ময়লা আছে কিনা, ময়লা থাকলে ছবি ঘোলা হবে।
৮। সব সময় খেয়াল রাখবেন ফোকাস যেন আপনার মূল সাবজেক্টের উপর হয়।
৯। যতদূর সম্ভব উচ্চ রেজুলেশনে ছবি তুলুন । ছবির সাইজ নিয়ে কিপ্টেমি করবেন না।
১০। এক্সপোসার – লো-লাইট কন্ডিশনে যদি আপনি এক্সপোসার সামান্য বাড়িয়ে ছবি তুলতে পারেন তবে আপনি বেশ ভালো ফলাফল পাবেন।
১১। বিভিন্ন রকম হোয়াইট ব্যালান্স সেটিং ব্যবহার করতে পারেন যেমন, ডে-লাইট, ফ্লুরোসেন্ট, ক্লাউডি ইত্যাদি। এগুলোও আপনার ছবিতে ভেরিয়েশন আনতে সাহায্য করবে।
১২। হাত না কাঁপিয়ে ছবি তুলতে চেষ্টা করুন।
১৩। প্রচুর ছবি তুলুন এতে আপনার হাত পাকা হবে।
১৪। ছবি তোলার পর আরও সুন্দর করতে সামান্য এডিট করা যেতে পারে , তবে বেশি এডিট করলে ছবি খারাপ হয়ে যেতে পারে।

ট্রিকসঃ

ভিডিও দেখুন......


বর্তমান সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে সেলফি। যেকোন সামাজিক অনুষ্ঠান, বিয়ে বাড়ি, বন্ধুদের জমায়েত বা সুন্দর কোনো জায়গার সামনে দাঁড়িয়ে একা বা কয়েকজন মিলে মোবাইল ফোন আর ডিজিটাল ক্যামেরায় নিজেরাই তুলে ফেলছি নিজেদের ছবি আর একেই বলে সেলফি! কবে কখন প্রথম এই সেলফির প্রচলন হলো তা নিয়ে গবেষণা হয়েছে প্রচুর।

জানা যায় মার্কিন আলোকচিত্রী রবার্ট কর্নেলিয়াস ১৮৩৯ সালে নিজের ছবি নিজে তুলে পৃথিবীর প্রথম সেলফি তৈরি করেন। কিন্তু এ যুগে সেলফি বলতে যা বোঝায় সেই ‘সেলফি’ শব্দটি অস্ট্রেলিয়ার একটি অনলাইন ফোরাম সর্বপ্রথম ব্যবহার করে ২০০২ সালে। এরপর থেকে বিষয়টির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে-স্থান পায় অক্সফোর্ড অভিধানে এবং ২০১৩ সালে বর্ষসেরা শব্দের খেতাবও অর্জন করে ‘সেলফি’।

মানুষ কেন সেলফি তোলে? কেনই বা সেগুলো ছেড়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে? জানতে চেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশ্লেষণ করেছেন সেলফির মনস্তত্ত্ব। আমরাও সেগুলো নিয়ে বেশ অনুসন্ধাণ করে বেশ কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছি। আসুন আপনারও জেনে নিন মানুষের সেলফি তোলার কারণগুলো:
১। নিজেকে তুলে ধরতে:
নিজেকে সুন্দর করে অন্যের সামনে তুলে ধরার প্রবণতা মানুষের জন্মগত। মানুষ নিজেকে তুলে ধরতে চায় নিজেকে যতদূর সম্ভব পরিশীলিত করে। এই প্রবণতা স্বাভাবিক এবং মানবিকও বটে। সেই চাহিদা থেকেই সেলফি।
২। অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করতে:
২০১৩ সালে প্রকাশিত ‘সাইকোলজি অব সেলফিজ’ নিবন্ধে গবেষক ক্রিস্টি বারলেট বলেন, যারা বেশি বেশি সেলফি তোলে ও পোস্ট করে তাদের বেশির ভাগের মধ্যেই রয়েছে অন্যের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা এবং তারা কেউ কেউ ব্যক্তিজীবনে অনেকখানিই একা।
৩। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে ধরে রাখতে:
আমরা সাধারণত ছবি তুলে রাখি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে। আর এ স্মরণীয় ঘটনা ভাগ করি সেই মুহূর্তে অনুপস্থিত বন্ধুদের সঙ্গে। বর্তমানে কাজটি চটজলদি সমাধানে সেলফিই একমাত্র ভরসা।
৪। সাবলীলতা প্রকাশ:
ক্যামেরা থাকলেও বিশেষ কোন দিনে বা ঘটনায় নিজের উপস্থিতি রেখে ছবি তুলতে সাহায্য নিতে হবে অন্যের। কিন্তু হাতে ধরা মোবাইলে নিজের ছবি তুললে সেই অনুভূতির প্রকাশ সাবলীল হয়।
৫। নিজস্বতা ঠিক রাখতে:
প্রিয় সঙ্গীকে নিয়ে বেড়াতে গিয়েছেন। আনন্দঘন ঘনিষ্ঠ সেই সব মুহূর্ত আপনারা দু’জন যে ভাবে উপভোগ করছেন, তা তৃতীয় কেউ বুঝবে না। সেলফির মাধ্যমে স্মরণীয় করে রাখার উপায় হাতে থাকলে, কে পরোয়া করে পেশাদার আলোকচিত্রীর লেন্সে ধরা দিতে? এই আবেগময় মুহূর্ত যে শুধুই আপনাদের দু’জনের। তাই সময়টাও নিতান্তই সেলফির।
৬। সময়ের সাথে তাল মেলাতে:
শেষ কারণ অবশ্যই হুজুগ। সকলেই যখন সেলফি তুলতে ব্যস্ত, তখন আপনি কেন বাদ থাকবেন। এই আনন্দ থেকে নিজেকে বিরত রাখা অর্থহীন। এছাড়া মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় নিজেকে ধরে রাখার বাতিক আগেও কম ছিল না। এখন বাড়তি পাওয়া হিসেবে তার একটি জুতসই নাম হয়েছে। 
বিঃ দ্রঃ আজকাল অনেক সময় দেখা যায় মানুষ নিজেকে একটু ভিন্ন ভাবে প্রদর্শন করতে জীবনের ঝুকি নিয়ে সেলফি তুলছে, এতে অনেকের জীবনের অবসান ও ঘটেছে। সুতরাং এসব কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।
Source: http://ournewsbd.com/